খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
পাবনার সুজানগর উপজেলায় মোবাইল নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ আর গোলাগুলিতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপি দল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন: উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখ (৫২), ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার (২৮), যুবদল নেতা মনজেদ শেখ (৪৫), পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর খা (৬০), উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য কামাল শেখ (৪৬), পৌর যুবদল সদস্য মানিক খা (৩৮), এনএ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল খা (২৫), পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি রুহুল খা (৪০), বিএনপি কর্মী লেবু খা (৬০) এবং যুবদল কর্মী হালিম শেখ (৪০)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজানগরের সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, সংঘর্ষে জড়িত মোলায়েম খা ও সুরুজসহ আরও কিছু ব্যক্তি বিএনপি কিংবা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেউ নন। দল এ ধরনের দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না এবং কেউ রাখলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে উপজেলা আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বলেন, ‘বহিষ্কারের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে আহত সদস্য সচিব আব্দুর রউফকে বহিষ্কার করায় আমরা মর্মাহত।’
এদিকে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, কেউ লিখিত অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁয়ের অনুসারী আশিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখের ভাতিজা ছাত্রদল নেতা কাউছার ও তার অনুসারীরা।
প্রথমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও পরদিন বুধবার দুপুরে আবারও আশিককে সিনেমা হলের সামনে ডেকে নিয়ে যান কাউছার। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি ও ছুরিকাঘাত। খবর পেয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে রউফ শেখ নিজেও হামলার শিকার হন এবং অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের সময় গুলির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/এমইউ