খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা। বাণিজ্য, কূটনীতি ও প্রভাব বিস্তারের নানা কৌশলে এখন আবারও শুরু হয়েছে একপ্রকার ‘শীতল যুদ্ধ’।
এই প্রতিযোগিতায় নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে চাপে পড়ছে আঞ্চলিক দেশগুলো, যাদের অনেকেই এখন কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার পথে হাঁটছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৫৮তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে দুই পরাশক্তির এই প্রতিযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১,৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এবং ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন সরবরাহ চেইনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও ‘চাপের কূটনীতি’র তীব্র সমালোচনা করেন এবং বেইজিংকে ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অন্তত ১৪টি এশীয় দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ঘোষণার দিনই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলোও পড়ে দ্বিধায়। কারণ, শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কো রুবিও এসব দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
চীন এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চায়। ওয়াং ই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশগুলোর ওপর যেভাবে শুল্ক বসাচ্ছে, তা অনৈতিক ও অমানবিক।” তিনি দাবি করেন, “চীন বরাবরই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার।”
চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সম্প্রতি মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সফর করেন, যেখানে চীন বড় পরিসরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে এসব দেশের জন্য চীনের বিরুদ্ধাচরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সকহোন বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে একত্র হয়েছি, যখন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।”
যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু কূটনৈতিক নয়, সামরিক প্রভাবও বজায় রাখতে সচেষ্ট। গত মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাপান ও ফিলিপাইন সফর করেন এবং দেশ দুটিকে আশ্বস্ত করেন যে ওয়াশিংটন তাদের পাশে রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে গৃহীত সামরিক সহযোগিতা চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের চিন্তা করছে। যেমন, অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন সরবরাহ চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সরাসরি কোনো পক্ষ নিতেই চায় না। বরং তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে সচেষ্ট।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের একক সিদ্ধান্ত ও হুমকির কূটনীতি দেশগুলোকে চীনের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু সরাসরি কোনো পক্ষ নেওয়ার চেয়ে এখন কৌশলগত ভারসাম্যই বেশি নিরাপদ।”
খবরওয়ালা/ আশ