খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
চাঁদা না দেওয়ায় পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। এরমধ্যে রাজধানীর পল্লবীতেও একই কারণে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় ‘এ কে বিল্ডার্স’ নামের একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পাওয়ায় এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এ সময় চার রাউন্ড গুলি চালায়, যার একটিতে আহত হন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।
আহত শরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ কে বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান মো. কাইউম আলী খানের ছেলে আমিমুল এহসান বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগে জামিল নামে এক ব্যক্তি বাবার কাছে পাঁচ কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় এর আগে দুইবার আমাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। গতকাল আবার ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে এসে গুলি চালায়।’
তিনি জানান, হামলাকারীরা অফিস ভাঙচুর করে, সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় এবং কর্মীদের মারধর করে।
পল্লবী থানার ওসি শফিউল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করছি এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
জানা গেছে, গত ২৭ জুন প্রথমবার এবং ৪ জুলাই দ্বিতীয়বার এ কে বিল্ডার্সে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কাইউম আলী খান পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাতে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগ ছিল।
এর আগে গত ৯ জুলাই (বুধবার) পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে দিনদুপুরে সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যা করে একদল ব্যক্তি। পরিবারের দাবি, মাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
সারাদেশে চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
খবরওয়ালা/এন