নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন, গত ১০ মাসে (সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫) বাংলাদেশে ‘উল্লেখযোগ্য অপরাধ বৃদ্ধি পায়নি’ এবং অপরাধের হার ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে। তবে পুলিশের নিজস্ব পরিসংখ্যান তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্ব্যর্থহীনভাবে সাংঘর্ষিক।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ মাসে দেশে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৩,৫৫৪টি এবং ধর্ষণের সংখ্যা ৪,১০৫টি—যা দিনে গড়ে ১০টিরও বেশি খুন এবং ১৩টির মতো ধর্ষণের নির্দেশ করে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত পৌঁছেছে ১১,০০৮টিতে।
শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই খুনের মামলা হয়েছে ২৯৪টি, যা আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় ৬৩টি বেশি। একই মাসে ডাকাতি, ছিনতাই এবং অপহরণের সংখ্যা ছিল রেকর্ড পরিমাণে। ওই ছয় মাসে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন মব ভায়োলেন্সে, যার প্রায় অর্ধেক ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়।
ফেসবুক পোস্টে ড. ইউনূস বলেন, “প্রধান অপরাধের হার স্থিতিশীল। কিছু গুরুতর অপরাধ কমছে বা অপরিবর্তিত রয়েছে।” কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডাকাতি হয়েছে ১,৫৮৭টি, সশস্ত্র ডাকাতি ৬৪৭টি এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ৫২১টি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার ভেতরে গভীর সংকটের আলামত। অনেকে ভয়ে অভিযোগই করতে পারছেন না, যার মানে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”
পুলিশের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের এআইজি এনামুল হক সাগর বলেন, “ঘটনা ঘটলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে, অপরাধ দমনে সমাজ ও পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে।”
অন্যদিকে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, “আমরা ১০০ শতাংশ সফল হইনি, এমনকি ৫০ শতাংশও না। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় লুট হওয়া অস্ত্র এখনও পুনরুদ্ধার হয়নি, যা অপরাধ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার নারী ও শিশুদের জন্য ২৪/৭ হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যদিও এটি পূর্ববর্তী সরকার চালু করেছিল। ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতির কথাও বলা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসাধারণ সরকারকে ‘পরিসংখ্যান দিয়ে ধোঁকা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি অপরাধের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে যে পোস্ট দিয়েছেন সেখানে মন্তব্যের ঘরে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন নেটিজনেরা। কয়েকজনের মন্তব্য খবরওয়ালা র পাঠকদের জন্য দেয়া হলো:
জুয়েল আকবর (Jewel Akber) লিখেছেন, কম্পেয়ার করবেন না।আগে কি হইসে এখন কি হইসে। প্রতিটা প্রাণের মুল্য আছে আপনি আসার পরে ৩৫৫৪ জন খুন হলো এই দায়বার আপনাদের নিতে হবে এবং সেটার জবাব দেয়া উচিৎ। খুব ভালো লাগতো যদি এই খুনের পাশাপাশি কয়টা খুনের রায় হইছে সেই পরিসংখ্যান টাও দিতেন। তাহলে আমরা বুঝতাম আমরা আগের চেয়ে ভালো আছি। কিন্তু আপনি এই কম্পেয়ার টা শেয়ার করে বুঝিয়ে দিলেন আপনিও এই খুন গুলো কে সাপোর্ট করেন তাহলে আপনার সাথে আর হাসিনার সাথে তফাত টা কই।
এই পরিসংখ্যান টা না এনে যদি আপনি এই ১৫৫৪ জন খুনের একটা রায় এনে আমাদের সামনে হাজির হতেন জনগনের আত্বা শান্তি পেতো।
খবরওয়ালা/এমএজেড