খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
নির্ধারিত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই অভিযোগ তোলা হয়।
বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অংশ নেন কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৈঠক-পরবর্তী বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশে আওয়ামী লীগপন্থি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দলের দোসররা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে সরকারকে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারির মতো দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। এটি গণতান্ত্রিক কার্যক্রম দমন ও নির্বাচন বানচালের একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করা হয়।
বৈঠকে নেতারা রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম ও সতর্কতার সঙ্গে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। অন্যথায়, তারা মনে করেন, গণতন্ত্রবিরোধী চক্রান্তকারীরা এর সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা বাড়াতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকসংক্রান্ত অগ্রগতি সভায় উপস্থাপন করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে আরও আলোচনা হতে পারে রাতের দ্বিতীয় দফা বৈঠকে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে মবোক্রেসি, হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বাড়ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অযোগ্যতা ও নির্লিপ্ততা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। উপদেষ্টারা মুখে আশ্বাস দিলেও বাস্তব কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারকে আহ্বান জানায় বিএনপি।
মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বিএনপিকে জড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের কুৎসিত প্রচার ও শিষ্টাচারহীন মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করা হয় বৈঠকে। বিএনপির ভাষ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষা ব্যবহারে জাতি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।
খবরওয়ালা/এমএজেড