খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন সাধারণ নাগরিক নিহত হলেও, সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোনো পক্ষ থেকে তাদের জন্য শোক প্রকাশ করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক বিবৃতি এসেছে, কিন্তু যেসব সাধারণ মানুষ গুলিতে মারা গেছেন, তাদের নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। ঐ পাঁচজন কি এই দেশের নাগরিক না?”
মাসুদ কামাল আরও বলেন, তিনি একটি ভিডিও দেখেছেন যেখানে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, “টার্গেট করে মার, টার্গেট করে মার!”
তার ভাষ্য, “আমি তো জানলাম এই পাঁচজন সাধারণ মানুষ ছিল। হয়তো তারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু গুলিটা তো করা হয়েছে! সেনাবাহিনী প্রশংসার দাবিদার—এ কথা ঠিক, কিন্তু তাদের কাজ কি পেছন থেকে গুলি করা? মানুষ তো সামনে দৌড়াচ্ছে, পেছন থেকে গুলি কেন?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “তাদের বেতন তো আমরা দিই। আর্মির কাজ কী? এটা কি যুদ্ধ? না। তাদের কাজ ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। ছত্রভঙ্গ করতে হলে সেটা করা যেত, কিন্তু গুলি করার প্রয়োজন কী ছিল?” ‘এই গুলি কারা করেছে, সেটা কি স্পষ্ট?’
মাসুদ কামাল স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলেন,’আর্মির কেউ কি আহত হয়েছে? তাহলে পাঁচজন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেল—তারা কি নিজের গুলিতে মারা গেছে? এনসিপির গুলিতে মারা গেছে? পুলিশের গুলিতে? নাকি আর্মির গুলিতে’ তার মতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ।
’আজকে কারফিউ চলছে, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে, কয়েকদিন পর দেখা যাবে এই এলাকা একটা আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। আমি যখন নিউজ এডিটর ছিলাম, তখন এগুলো লিখতাম; রিপোর্টার থাকাকালীন নিজে গিয়ে দেখতাম—আজও সেই একই দৃশ্য, কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
টকশোতে এনসিপির নেতাকর্মীদের বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, “দেখলাম শেখ মুজিবের মাটিতে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলছে, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’। এটা কী ধরনের সফলতা? ‘মুজিববাদ’ বলে কিছু আছে—এটা কাগজে-কলমে দেখান। কোথায় আছে মুজিববাদ?”
তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জের মিটিং শেষে যখন কেউ ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দেয়, তখন মাথায় রাখা উচিত—এই জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছে। এখানকার মানুষ জন্ম থেকেই শেখ মুজিবকে নেতা হিসেবে দেখে আসছে। তাহলে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে কী রাজনৈতিক অর্জন হয়েছে?”
মাসুদ কামালের বক্তব্যে উঠে এসেছে স্পষ্ট ক্ষোভ ও হতাশা—নিহত সাধারণ নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের নীরবতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে দলগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
খবরওয়ালা/এমএজেড