খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের ইয়েসাগিও টাউনশিপে সামরিক জান্তার পৃথক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সদ্য বিবাহিত প্রতিরোধ যোদ্ধা ও তার স্ত্রীও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব হামলা ছিল অসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো যা সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ইয়েসাগিও শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল দক্ষিণে মাউক কা লান গ্রামে একটি স্কুলে প্যারামোটর থেকে বোমা নিক্ষেপ করে জান্তা সেনারা। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয় এবং আহত হন আরও দুজন ১৬ বছরের এক কিশোরী ও ২৪ বছরের এক যুবক।
স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনার সময় সেখানে কোনো সংঘর্ষ চলছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনী স্কুলটিকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ঘাঁটি মনে করে হামলা চালায়, যদিও প্রতিরোধ বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ওই স্কুলে কোনো যোদ্ধা অবস্থান করছিল না।
স্কুলে হামলার দুই দিন আগে ইয়েসাগিও শহরের দক্ষিণে কান বেইত গ্রামে জান্তা বাহিনীর গোলাবর্ষণে নিহত হন চারজন। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে দুটি গোলা ছোড়া হয় প্রথমটি মঠের পাশের একটি বাড়িতে এবং দ্বিতীয়টি বিস্ফোরণের পর আগুন নেভাতে আসা লোকজনকে আঘাত করে।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২০ বছর বয়সী একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা ও তার সদ্য বিবাহিত ২৪ বছর বয়সী স্ত্রী, ৩২ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। আহত হন আরও চারজন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইয়েসাগিও শহরের কেন্দ্রে তিনটি জান্তা ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি থাকলেও শহরের বাইরের গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে। তারা এলাকাজুড়ে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতেও প্রতিরোধ বাহিনী জান্তার রসদ বহনকারী একটি কনভয়ের ওপর মাইন হামলা চালায় এবং বেশ কিছু খাদ্য ও সরঞ্জাম জব্দ করে।
মিয়ানমারে চলমান সংঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা।
সূত্র: মিয়ানমার নাউ
খবরওয়ালা/টিএস