খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর নবাবগঞ্জে সংঘবব্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী। পরিবার বিষয়টি পরবর্তীতে জানতে পারলেও লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এ ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে আলী আকবর (৬২) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তবে আলমগীর হোসেন (৪০) নামে অভিযুক্ত অপরজন সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেছে ।
আটককৃত আলী আকবর উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের পানালিয়া গ্রামের মৃত সামাদ বেপারীর ছেলে। পলাতক আলমগীর হোসেন একই গ্রামের আলী আকমতের ছেলে।
কিশোরীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোক্তভোগী কিশোরীর বাবা একজন দিনমজুর। পরিবারের প্রয়োজনে প্রায়সময় মাকেও বাড়ির বাহিরে থাকতে হয়। ৭-৮ মাস আগে আলী আকবর ও আলমগীর মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে ঝাপটে ধরে। চিৎকার করলে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। পরে তারা দুজন মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে যদি কাউকে জানানো হয় তবে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখানো হয়। ভয়ভীতি দেখিয়েই অভিযুক্তরা কিশোরীটিকে সংঘবদ্ধভাবে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ভোক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।
লোকলজ্জার ভয়ে কিশোরীর অসহায় পরিবার গোপনে গর্ভপাত করালেও তা জানাজানি হয়ে যায়। এ খবর নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আলী আকবর ও আলমগীর হোসেনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। কিন্তু অপর অভিযোক্ত চালাক আলমগীর পরিস্থিতি বুঝে ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আমি দিনমজুর,তাই বলে আমাদেরও তো সমাজে সম্মান আছে তাই গোপনে শনিবার বিকালে গোপনে মেয়ের গর্ভপাত করিয়েছি। কিন্তু আমার মুখ দেখানোর আর অবশিষ্ট রইলো না। আমি ওই দুই লম্পটের উপযুক্ত বিচার চাই।’
নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিবুল ইসলাম বলেন, একজন ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। আপরজন কৌশলে পালিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
খবরওয়ালা/টিএস