খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে সাতমাথা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ বহুদিন ধরে খানাখন্দে ভরে গেছে। গর্ত আর ধুলাবালির কারণে রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী।
এই অবস্থায় সিটি করপোরেশনকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে গায়েবানা জানাজা পড়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর সাতমাথা রেল গেট এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। প্রতিবাদস্বরূপ গায়েবানা জানাজা পরিচালনা করেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রাহুল ইসলাম। এতে যুবক শ্রেণির অংশগ্রহণ বেশি লক্ষ্য করা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশস্ত এই সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্তে জমে থাকা পানি দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় ধুলোর ঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনচালকরা।
রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘গাড়ি প্রতিদিন গর্তে পড়ে ঝাঁকুনি খায়, মনে হয় উল্টে যাবে। গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়।’ একই অভিযোগ করেন ভ্যানচালক শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই ভ্যানের বিয়ারিং ভেঙে যায়, যাত্রী পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।’
আশরাফুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই সড়কে ছেলে-মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া করি। প্রতিদিন ভয় লাগে, কখন দুর্ঘটনায় পড়ি।’
গায়েবানা জানাজায় অংশ নেওয়া রাজিমুজ্জামান হৃদয় বলেন, ‘নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে সিটি করপোরেশনের কোনো মাথাব্যথা নেই। বারবার বলার পরও সংস্কার হচ্ছে না। বাধ্য হয়েই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘পুরো সিটি এলাকায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভাঙাচোরা হয়ে গেছে। এজন্য ২১০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।’
খবরওয়ালা/এন