খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ মধ্যরাতে ছাত্রদলের ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে লতিফ হস্টেল ও সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহতদের চিৎকারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রাত ২টার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও থমথমে অবস্থা কাটেনি।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সংগঠনেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিচে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের বর্তমান অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| সংঘর্ষের সময়কাল | রাত ১:০০ থেকে ২:০০ পর্যন্ত |
| আহতদের সংখ্যা | কমপক্ষে ১০ জন (ছাত্রদল ও শিবির কর্মী) |
| গুরুতর আহত | ৩ জন (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী) |
| চিকিৎসাধীন হাসপাতাল | ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল |
| আক্রান্ত স্থান | ছাত্রাবাস ও প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন এলাকা |
| বর্তমান অবস্থা | ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন |
ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গভীর রাতে হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধরণের সংঘাত অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনা তদন্তে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া ছাত্ররা কি সাধারণ শিক্ষার্থী নাকি বহিরাগত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এবং হস্টেল এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ বাহিনী। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক আধিপত্যের কারণে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।