খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষক পরীক্ষার খাতার ওএমআর অংশ পূরণ করিয়েছেন টিকটকার শিক্ষার্থীদের দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্তত ১০টি ভিডিও ও ছবি থেকে বিষয়টি সামনে আসে, যা দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আটজন পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক পরিবারের সদস্য বা শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর যোগফল বের করাচ্ছেন। এবার সেই অনিয়ম ভিডিও আকারে প্রকাশ পেয়েছে টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে। যেখানে দেখা যায়, ছাত্ররাই খাতার বৃত্ত ভরাট করছে; কেউ আবার খাতা হাতে খাবার খাচ্ছে, ভিডিও বানাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করছে, এই অনিয়মের ফলেই এবারের এসএসসিতে প্রায় ৬ লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে—যা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি কেউ কেউ ১১ বিষয়ে এ প্লাস পেয়েও একটি বিষয়ে ফেল করেছে, যা অস্বাভাবিক। ফলাফল নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে—মাত্র ঢাকা বোর্ডেই ৯২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, সবচেয়ে বেশি গণিতে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার উত্তরপত্র কোনোভাবেই শিক্ষক ছাড়া অন্য কেউ মূল্যায়ন করতে পারবে না—এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি শিক্ষাব্যবস্থার গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উদ্বিগ্ন ২০২৫ সালের পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছে: এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে পরীক্ষার মান বা ফলাফলের ওপর আস্থা থাকবে কোথায়?
খবরওয়ালা/টিএস
মন্তব্য