খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসা খাতে পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। দেশে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে তার রয়েছে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদান।
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। দগ্ধ ও আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। এদের অনেকেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে ডা. সামন্ত লাল সেনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান চিকিৎসকের ভূমিকা অনুপস্থিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।
অনলাইন-অফলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, কেন এত বড় বিপর্যয়ের সময় তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। অনেকেই স্মরণ করছেন, অতীতে বড় বড় দুর্ঘটনা ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ডা. সামন্ত লালের নেতৃত্বে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছিল।
বেলজিয়ামপ্রবাসী পিএইচডি গবেষক ও লেখক রাজু নূরুল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আপনারা কি জানেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে? সেটির প্রথম পরিচালক ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। পুড়ে যাওয়া রোগীর চিকিৎসায় তার খ্যাতি আন্তর্জাতিক। সরকার নাকি বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনবে—এই বিদেশপ্রীতি বন্ধ করুন। এই মুহূর্তে আমাদের বাচ্চাদের চিকিৎসা দরকার। ডা. সেন ছাড়া এমন বড় দুর্যোগ সামলাতে পারে, এমন লোক আর আছে কি না, সন্দেহ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একজনের প্রাণও যদি বাঁচে, সেটাই মহামূল্যবান। দগ্ধদের চিকিৎসায় এখন তাকে দরকার।’
চিকিৎসক ডা. আনোয়ার হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেশের মানবিক সংকটে ডা. সামন্ত লাল সেনকে চিকিৎসায় যুক্ত করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। চিকিৎসা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। এই মুহূর্তে মানুষের জীবন রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সাংবাদিক মাসুম আলী লিখেছেন, ‘ডা. সামন্ত লাল কারাগারে—এটা কি নিশ্চিত? কেউ বলছেন গ্রেপ্তার, কেউ বলছেন তিনি বাইরে। প্রকৃত সত্য জানা দরকার। তবে এটুকু বলা যায়, এই মুহূর্তে ওনার বিকল্প নেই।’
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ডা. সামন্ত লাল সেন কারাগারে নন; তিনি হয়তো তার নিজ বাসায় কিংবা অন্য কোথাও আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে যে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি, সেটি সঠিক নয় বলেই জানা গেছে। তবে তার অবস্থান নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/এন