খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের হাত ধরে স্নেহভরে তাদের অপেক্ষমাণ বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিতেন উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী (৪৬)। কিন্তু সোমবারের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ঘটল চরম ট্র্যাজেডি। দুর্ঘটনার সময় তিনি দূরে ছিলেন। আগুন দেখে ছুটে আসেন, ঝাঁপিয়ে পড়েন শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচাতে।
সাহসিকতার সঙ্গে একাই ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু নিজে আর ফিরতে পারেননি নিরাপদে। আগুনে ঝলসে যায় তাঁর পুরো শরীর। পরে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে আইসিইউতেই মারা যান এই আত্মোৎসর্গী শিক্ষিকা।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মেহেরীন চৌধুরীর শরীরের ১০০ শতাংশই দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনি দেরি না করে দৌড়ে গিয়ে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে বের করে আনেন। পরে তাদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে।
একজন অভিভাবক জানান, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেহেরীন চৌধুরীর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার কারণে কমপক্ষে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই শিক্ষিকাকে এখন স্মরণ করা হচ্ছে এক সত্যিকারের নায়িকা হিসেবে।
খবরওয়ালা/টিএস