খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ গণসংগীতের ‘মহানায়ক’ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ২৩ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
ফকির আলমগীর ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গণসংগীত ও লোক–পপ গায়ক, যিনি দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শ্রমিক–জনমানুষের আন্দোলনে গানে সাহস জুগিয়েছেন।
তার জন্ম ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ‘ক্রান্তি শিল্পী’ ও ‘গণশিল্পী গোষ্ঠী’র সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন–সংগীতে অংশ নেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর গাওয়া গান জনগণের আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালে তিনি ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এ যুক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।
যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তিনি গণসংগীতের মাধ্যমে জনজাগরণ ও প্রতিবাদী গীতির ধারাবাহিকতা গড়ে তোলেন।
১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী’ এবং পরবর্তীতে ‘গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ’ পরিচালনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে: “ও সখিনা”, “সান্তাহার”, “Nelson Mandela”, “Naam Tar Chhilo John Henry”, “Banglar Comrade Bondhu”, “মায়ের একধার দুধের দাম”, “কালো কালো মানুষের দেশে” ইত্যাদি।
তিনি নিজেই গান রচনা ও সুর করতেন। লেখক হিসেবেও তিনি ছিলেন সক্রিয়—প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: চেনা চায়না (১৯৮৪), মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, বিজয়ের গান, গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান—মোট নয়টি বই তিনি লিখেছেন।
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক প্রদান করে।
সাংস্কৃতিক জগৎ ও সমাজের মানুষের কাছে তিনি “গণমানুষের মুখপাত্র” হিসেবে স্মরণীয়।
ফকির আলমগীর ছিলেন একাধারে সংগ্রামী, সাংস্কৃতিক নেতা ও মানবতার কণ্ঠস্বর। তাঁর গান স্বাধীনতা, শ্রমিক–জনমানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠ হয়ে ওঠে।
ধ্রুপদী লোক–পপের মাধ্যমে তিনি সঙ্গীতে নতুন একটি ধারা সৃষ্টি করেছিলেন, যা আজও স্মরণীয়।
তাঁর সংগীত ও সামাজিক অঙ্গীকার অনেকের জীবনকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড