খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে সামরিক হামলার জন্য গোপনে চাপ দিচ্ছিল—এমন দাবি করে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সরাসরি অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের মুখপাত্র ফাহাদ নাজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরব সবসময়ই কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য চুক্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগে প্রেসিডেন্টকে ভিন্ন নীতি গ্রহণের জন্য লবিং করা হয়নি।
ফাহাদ নাজার আরও উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাত এড়াতে সৌদি আরব নিয়মিত উদ্যোগ নিয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার অবস্থান আগেই প্রকাশ করেছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ২৬ জানুয়ারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের তথ্য তুলে ধরেন। আলাপে যুবরাজ জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানো হয়। অভিযান শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের কূটনৈতিক ও সামরিক আচরণকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ইরানের হামলা স্থানীয় দেশ এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত অবস্থান এবং দাবি ইরানের প্রতি কূটনৈতিক সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক চাপের একটি অংশ। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন উভয়পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের ভূখণ্ড নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দাবিকারী সংবাদ | ওয়াশিংটন পোস্ট |
| সৌদি আরবের অবস্থান | প্রেসিডেন্টকে হামলার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি |
| দূতাবাসের মন্তব্য | কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে |
| যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আলাপ | ইরানের বিরুদ্ধে আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার দেওয়া হবে না |
| যৌথ সামরিক অভিযান | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো শুরু |
| শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষতি | আলী খামেনিসহ বহু কর্মকর্তা নিহত |
| যৌথ বিবৃতি | যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা |
উপসংহারে, সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনোভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রভাবিত করতে চেষ্টা করেনি। এছাড়া, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করাই সৌদি আরবের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের জটিলতার একটি প্রতিফলন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে সাবধান হতে বাধ্য করেছে।
এই অবস্থার মধ্যে, কূটনৈতিক সংলাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন সকল পক্ষের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।