খবরওয়ালা
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
আজ ২৩ জুলাই (বুধবার) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকী। ১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই দূরদর্শী, মেধাবী ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক।
তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলকে সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যুগল নেতৃত্বে তিনি দল ও জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকেই গঠন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধকালীন প্রশাসন পরিচালনা করেন দক্ষতার সঙ্গে। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। তবে রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে পরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশ এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি হয়। সেই সময় তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয় এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতার অন্য তিনজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা জাতির ইতিহাসে এক বেদনার অধ্যায় হয়ে আছে।
তাজউদ্দীন আহমদের সততা, প্রজ্ঞা, কৌশলী নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম আজও রাজনীতির পথিকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আজ জাতি যখন নৈতিক নেতৃত্বের সংকটে, তখন তাঁর মতো দূরদর্শী ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিকের অভাব গভীরভাবে অনুভূত হয়।
তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবার ও বিভিন্ন মহল বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। এই দিনে জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে সেই মহান মানুষটিকে, যাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস অপূর্ণ থাকত।
-খবরওয়ালা