খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৬ জুলাইয়ের জনসভাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলো তদন্তে সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৫৬ সালের *দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট*-এর ৩ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশনটি গঠন করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এনসিপির জনসভাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে সুপারিশ করতে এই কমিশন কাজ করবে।
কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আবু তারিককে। বাকি সদস্যরা হলেন—জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মো. সাইফুল ইসলাম, কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহীদুর রহমান ওসমানী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক) সরদার নূরুল আমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
এই তদন্ত কমিশন গঠনের আগে একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।
কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে:
তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত জনসভায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রমে লিপ্ত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে কারফিউ ঘোষণা করা হয় এবং ‘ইন-এইড-টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় হতাহতের পাশাপাশি সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।
প্রয়োজনে কমিশন অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিশনকে সাচিবিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। কমিশনের কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে মন্ত্রণালয়ের।
কমিশনকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
খবরওয়ালা/শরিফ