খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল শিক্ষার্থীরা।
তবে ঘটনার ভয়াবহতা ভুলে গিয়ে অনেককে বাঁচাতে এগিয়ে আসে তিন বন্ধু—আরমান খান মোস্তফা, সাজ্জাদ হোসেন নাফি ও প্রলয় হাওলাদার। তারা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ক্লাস শেষে ক্যান্টিনের পাশে আড্ডায় বসেছিল তিনজন। হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। মুহূর্তেই দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা। তখনো তারা বুঝতে পারেনি, একটি প্রশিক্ষণ বিমান স্কুলের পাশেই বিধ্বস্ত হয়েছে।
আরমান বলেন, “আমরা কী হয়েছে জানতে এগিয়ে যাই। দেখি একটা ছেলের হাতে আগুন জ্বলছে। সে কান্না করতে করতে আমাদের দিকে আসছে। আমরা দুটা ব্যাগ দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলি এবং তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাই।”
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাফির গলা জড়িয়ে আসে। বলেন, “চারপাশে কান্নার শব্দ, ভয়ে সবাই দৌড়াচ্ছে। আমরা আহতদের উদ্ধার করে ভ্যানে তুলে দিচ্ছিলাম। একজন মেয়ের ব্যাগে আগুন ধরে যায়, সেটা পিঠের সঙ্গে লেগে ছিল। ব্যাগ টান দিতেই চামড়াও উঠে যায়। মেয়েটা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল।”
নাফি জানান, তারা অন্তত ১৮-২০ জনকে উদ্ধার করেছেন। “ছোটদের কেউ দেখাশোনা করছিল না। আমরা ওদের গার্ডদের কাছে পৌঁছে দেই।”
প্রলয় বলেন, “একটা মেয়ে পড়ে গিয়েছিল, পা ও পিঠে আগুন লেগে গিয়েছিল। আমরা তিনজন মিলে তাকে তুলে ভ্যানে তুলে দেই। এতকিছুর মধ্যে নিজের ছোট ভাইয়ের কথাই ভুলে গিয়েছিলাম।”
পরে বহু খোঁজাখুঁজির পর প্রলয় তার প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাইকে খুঁজে পান এক ম্যাডামের আশ্রয়ে।
এই তিন কিশোরের মানবিকতা ও সাহসিকতায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে বহু শিশু। বিমানের ছায়া যখন এখনও তাদের মনে আতঙ্কের জন্ম দেয়, তখন এই সাহসিকতার গল্পই সবার মাঝে আলো জাগায়।
খবরওয়ালা/আশ