খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ প্রবেশের পর শুরু হওয়া বিভিন্ন সেবার বিপরীতে মাশুল বা চার্জ গড়ে ৪০ শতাংশ বাড়াতে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ৫২টি সেবার বিপরীতে নির্ধারিত হারে মাশুল আদায় করা হলেও নতুন প্রস্তাবনায় সেগুলোকে ২৩টি শ্রেণিতে সংক্ষেপ করা হয়েছে। এতে চারটি পুরোনো সেবা বাতিল এবং নতুন পাঁচটি সেবা যুক্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ প্রস্তাব এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে গেজেট প্রকাশ হলেই এটি কার্যকর হবে।
ট্যারিফ একবারে ৪০ শতাংশ মাশুল বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকেরা। তাদের মতে, ডলার মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়, চাহিদা সংকটের সঙ্গে এখন বন্দরসেবার ব্যয় যুক্ত হলে তা উৎপাদন খরচ বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর এর প্রভাব পড়বে।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট পিএলসির এমডি আমিরুল হক বলেন, ’বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে ৪০% মাশুল বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা। ধাপে ধাপে বাড়ালে চাপ অনেক কম হতো।’
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়ায় আমরা এমনিতেই বেশি টাকা দিয়ে বন্দরসেবা নিচ্ছি। এখন ট্যারিফ বাড়লে আমদানি পণ্যের দাম এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, দীর্ঘদিন পর ট্যারিফ কাঠামো আপডেট হচ্ছে। নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের বেতন ও পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার মান বাড়বে বলে তিনি দাবি করেন।
২০১৯ সালে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ২০২২ সালে স্পেনভিত্তিক আইডিওএম কনসালটিং এবং বাংলাদেশের লজিক ফোরাম লি. যৌথভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্যারিফ প্রস্তাব তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মান, ব্যবহারকারীদের স্বার্থ, বন্দরের রাজস্ব ও সেবার মান, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এই কাঠামো তৈরি হয়।
সার্বিকভাবে, ১৯৮৬ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড় পরিসরে বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধির উদ্যোগ। তবে বাস্তবায়ন হলে একদিকে বন্দর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিক বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে, এমন দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া এখন স্পষ্ট।
খবরওয়ালা/ এমএজেড