খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
ঢাকার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুলে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমাউল হোসনা জায়রা। তবে তার চোখের সামনে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় মা লামিয়া আক্তার সোনিয়ার।
গত ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আজ (২৬ জুলাই) পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন বহু মানুষ। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন সোনিয়া। কয়েকদিনের চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করে সিআইডি। ২৪ জুলাই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে এর আগেই জায়রা নিশ্চিত ছিল তার মা আর নেই। দুর্ঘটনার পর সে বাবাকে বলেছিল, ‘বাবা, তুমি আম্মুকে খুঁজো না। আমি নিজ চোখে দেখেছি, আম্মু আগুনে জ্বলছে।’
জায়রার বাবা আমিরুল ইসলাম জনি জানান, দুর্ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রী সোনিয়া স্কুল থেকে মেয়েকে নিতে গিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসে পৌঁছে মেয়েকে একটি ক্লাসশিট ঠিক করাতে এক শিক্ষকের কাছে পাঠান তিনি। ঠিক তখনই ঘটে দুর্ঘটনা, আর সেখানেই জীবন থেমে যায় সোনিয়ার।
জনি বলেন, “দুই দিন ধরে সোনিয়াকে খুঁজছিলাম। সে সময় মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে জায়রা বলে, ‘বাবা, আমাদের বাসায় এত মানুষ আসে কেন?’ আমরা বলি, ‘এমনিতেই।’ তখন সে বলে, ‘বাবা, আমি জানি তারা কেন আসে। দুই দিন ধরে একটা কথা বলি না, তুমি কষ্ট পাবে বলে। কিন্তু এখন বলি—তুমি আম্মুকে খুঁজো না। আমি নিজ চোখে দেখেছি, আম্মু আগুনে পুড়ে গেছে।’”
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত হওয়ার পর গতকাল (২৫ জুলাই) সিআইডি সোনিয়ার মরদেহ ঢাকা সিএমএইচ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
সোনিয়ার বাবা বাবুল হোসেন বলেন, “ঘটনার পর অনেক জায়গায় খুঁজেও মেয়েকে পাইনি। পরে সিআইডিতে রক্ত দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করি। অবশেষে মেয়ের লাশ পাই। শরীরটা টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।”
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোনিয়াকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বাগনি বাড়ি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
খবরওয়ালা/ এমএজেড