মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘ওহিদুর বাহিনী’র অধিনায়ক, প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক ওহিদুর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওহিদুর বাহিনীরই এক সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা হাসানুজ্জামান ভুলু।
ওহিদুর রহমানের জানাজা আজ বাদ এশা নওগাঁ জেলার নওজোয়ান মাঠে এবং রোববার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম আত্রাইয়ের রসুলপুরে অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নওগাঁ, রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দুই হাজারেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিশাল এক প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন ওহিদুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত বাহিনীটি ইতিহাসে ‘ওহিদুর বাহিনী’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতিতে যুক্ত থাকা ওহিদুর রহমান ১৯৬৭-৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকেই তাঁর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু।
মুক্তিযুদ্ধকালে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলার নয়টি থানাজুড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওহিদুর বাহিনী। বিশেষ করে জলপথে গেরিলা হামলার জন্য পরিচিত ছিল তাঁর বাহিনী। সেই সময় রাজশাহী-নওগাঁর মানুষ তাঁর এই নৌবহরকে ডাকত ‘ওহিদুরের বায়ান্ন ডিঙ্গি’ নামে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আত্রাইয়ের সাহাগোলা ব্রিজ ধ্বংসের ঘটনা, যেখানে ওহিদুর বাহিনীর আক্রমণে ১০৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আত্রাইয়ের তারানগর বাউল্লায় আরেকটি অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি নৌবহরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৫০ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে তাঁর নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা।
ওহিদুর রহমানের মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বীর যোদ্ধার অবসান ঘটল। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, সংগঠনী দক্ষতা ও আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
খবরওয়ালা/এসআই



