খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব ত্রিপোলির একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫০০ অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৬ জুলাই) এই অভিযানটি পরিচালিত হয় এবং আটক হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগই মিসরীয় ও সাব-সাহারা আফ্রিকার অভিবাসী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রী আলী আল-আবেদ জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু আবাসন এলাকায় অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকদের বসবাস দেখতে পাওয়া গেছে। তারা বৈধ পাসপোর্ট বা স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কোনো নথি ছাড়াই লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এসব শ্রমিকের অধিকাংশই বিভিন্ন দেশ থেকে আসলেও তাদের লিবিয়ায় বসবাসের অনুমতি ছিল না।
লিবিয়া দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে মোয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই দেশটি দুটি শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার ও পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রশাসন এই দুটি শাসনকাজ পরিচালনা করছে।
লিবিয়া বর্তমানে ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে, কারণ এটি ইতালি উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই দেশটি থেকে হাজার হাজার অভিবাসী লিবিয়ার উপকূল পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, যদিও এটি জীবনের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ।
যতদূর জানা গেছে, ত্রিপোলির পূর্বাঞ্চলে যে অস্থায়ী শিবিরগুলিতে অভিবাসীরা বসবাস করছিলেন, সেগুলোতে জীবনযাত্রার কোনো ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। শিবিরগুলোতে মুদি দোকান, মাংসের দোকান ও সবজির দোকানও ছিল, তবে জীবনযাত্রার মৌলিক সুবিধা অনুপস্থিত ছিল।
আটক হওয়া শ্রমিকদের বর্তমানে লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন-বিরোধী কেন্দ্রগুলিতে স্থানান্তরিত করা হবে, এবং তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় আইন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, তাদেরকে লিবিয়া থেকে তাড়াতাড়ি ফেরত পাঠানো হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তারা এবং গ্রিস, ইতালি ও মাল্টার মন্ত্রীরা লিবিয়ায় সফর করেন, যেখানে তারা লিবিয়ার সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলা এবং অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করেন।
খবরওয়ালা/আরডি