খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাজ্যে এখন থেকে পর্নোগ্রাফি দেখতে হলে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য সেলফি বা ছবি সহ আইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি প্রকাশ বা প্রদর্শনকারী ওয়েবসাইটগুলোকে একটি কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।
ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা অফকম জানিয়েছে, ওয়েবসাইটগুলোকে বয়স যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, ক্রেডিট কার্ড যাচাই, ছবি আইডি মিলিয়ে দেখা, কিংবা ব্যবহারকারীর দেওয়া সেলফির মাধ্যমে আনুমানিক বয়স নির্ধারণ করা।
এরই মধ্যে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্নো সাইট ‘পর্নোহাব’সহ বেশ কিছু পর্নো সাইট এই নিয়ম মেনে চলার জন্য সম্মতি জানিয়েছে। শুধু পর্নো সাইট নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিও—যেমন রেডিট ও ব্লুস্কাই—এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।
তবে এই ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। কেউ ভিপিএন ব্যবহার করছেন, কেউ আবার চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে বানানো ভুয়া ছবি আইডি বা ভিডিও গেম চরিত্রের সেলফি দিয়ে যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। এই ধরনের ফাঁকি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নতুন আইনে বলা হয়েছে, বয়স যাচাই এড়াতে সাহায্য করা ভিপিএন ব্যবহারও অবৈধ হবে।
অফকম জানিয়েছে, বয়স যাচাইয়ের নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এখন লক্ষাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে পর্নোগ্রাফি দেখতে হলে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি প্রমাণ করতে হবে। আগে যেখানে শুধু “আমি প্রাপ্তবয়স্ক” চেকবক্সে টিক দিলেই চলত, এখন সেটি বাতিল করে কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু হয়েছে—যেমন সেলফি ভিত্তিক বয়স নির্ধারণ, আইডি ডকুমেন্ট আপলোড এবং ক্রেডিট কার্ড যাচাই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন পদ্ধতিগুলোর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি এবং সরকারি নজরদারি বা ডেটা ব্রিচের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষক রিয়ানা ফেফারকর্ন বলেন, ‘এই প্রযুক্তি মানুষের গোপন তথ্য অনুসন্ধানের স্বাধীনতায় বাধা দেয়।’
ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন সতর্ক করে বলেছে, ‘এই ব্যবস্থা কার্যকর না হয়ে উল্টো মানুষকে ভুয়া ও অবৈধ সাইটে ঠেলে দিতে পারে।” আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিসা গিভেন বলেছেন, “এই আইন মানুষের কাছে ভুয়া নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, তবে বাস্তবে এটি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না।’
সূত্র: ইএনগেজেট, ওয়্যারড
খবরওয়ালা/আরডি