খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে গাঁজা সেবনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টিনএজারদের মধ্যে গাঁজার প্রধান উপাদান টিএইচসি, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিবিডি এবং আরও বিপজ্জনক সিনথেটিক ক্যানাবিনয়েড ভ্যাপিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকেই জানে না তারা কীসের ভ্যাপ ব্যবহার করছে।
‘আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যাক চুং। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর করা ন্যাশনাল ইউথ টোব্যাকো সার্ভের ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২২ সালে টিএইচসি ভ্যাপিংয়ের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, আর ২০২৩ সালেও সিনথেটিক ক্যানাবিনয়েডের ব্যবহার বাড়তে থাকে। এই সিনথেটিক ক্যানাবিনয়েড হলো কারখানায় তৈরি এমন এক ধরনের রাসায়নিক, যা প্রাকৃতিক গাঁজার টিএইচসি-র প্রভাব অনুকরণ করে। এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক, কারণ এটি মস্তিষ্কের রিসেপ্টরগুলোর সঙ্গে আরও জোরালোভাবে যুক্ত হয়, ফলে দেখা দেয় তীব্র এবং অনিশ্চিত স্বাস্থ্য জটিলতা।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ভ্যাপিং করা অনেক কিশোর-কিশোরী জানে না তারা কী সেবন করছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ‘জানি না’—এমন উত্তরদাতার সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অজ্ঞতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সিনথেটিক ক্যানাবিনয়েড সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং এতে কী উপাদান আছে, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
গবেষণা অনুযায়ী, যারা গাঁজা ভ্যাপিং করে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে গাঁজা সেবনকারীদের চেয়ে ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আচরণগত সমস্যা বেশি দেখা গেছে।
গবেষক জ্যাক চুং বলেন, কিশোরদের মধ্যে কৌতূহল, বন্ধুদের প্রভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভ্যাপিং-সংক্রান্ত কনটেন্ট এই প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে গাঁজাসেবনের রঙিন প্রচার কিশোরদের প্রলুব্ধ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অনেক কিশোর হয়তো বুঝতেই পারে না, তারা কী ভ্যাপ করছে। এটি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’
খবরওয়ালা/এন