খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের কোমান্ডা শহরের একটি ক্যাথলিক চার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় বেশ কয়েকজনকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় দোকানপাট ও বাড়িঘরেও আগুন দিয়েছে হামলাকারীরা। হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এডিএফ)-কে দায়ী করা হলেও এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের নেতা দিওদোনে দুরানথাবো জানান, ‘রাত ১টার দিকে এডিএফ সদস্যরা চার্চের ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালায়। ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে ২১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আরও তিনটি পুড়ে যাওয়া মরদেহ পাওয়া গেছে। বহু বাড়িঘর ও দোকান ধ্বংস হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সব ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী থাকার পরও এ ধরনের হামলা খুবই হতাশাজনক। হামলাকারীরা এখনো আশপাশেই রয়েছে। অনেক বাসিন্দা ভয়ে শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।’ দ্রুত সেনা হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, কঙ্গোর সেনাবাহিনীর ইটুরি প্রদেশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুলস এনগঙ্গো বলেন, ‘কোমান্ডার কাছে একটি গির্জায় অস্ত্রধারীরা মাচেট নিয়ে হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তারা আশপাশের দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেয়।’
চলতি জুলাই মাসেই ইটুরিতে আরও একটি ভয়াবহ হামলা চালায় এডিএফ। সেই ঘটনায়ও বহু মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র ওই হামলাকে ‘রক্তস্নান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উগান্ডায় গঠিত হয় এডিএফ। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে এডিএফ গঠিত হয়। ২০০২ সালে উগান্ডার সেনা অভিযানের মুখে তারা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সরে যায়। বর্তমানে তারা ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ এবং পূর্ব আফ্রিকায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিআর কঙ্গোর সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই এডিএফ-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। তবে সম্প্রতি রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ গোষ্ঠীর নতুন করে হামলা শুরুর পর পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
খবরওয়ালা/এন