খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় ১০০ গ্রাম হিরোইনসহ এক যুবককে আটকের পর মাদক মামলার বদলে ছিনতাই মামলা করার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেনিভা ক্যাম্প এলাকা থেকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মূল্যের হিরোইনসহ সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার এজাহার তৈরি হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করে একই নম্বরে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয় এবং নতুন মামলায় অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় ১০ গ্রাম হিরোইনের উল্লেখ থাকলেও উদ্ধার হয়েছিল ১০০ গ্রাম। সেই পুরো হিরোইন ‘গায়েব’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সদর দপ্তর থেকেও একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার দিন (৬ মে) জেনিভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে এসআই শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে সাদ্দামকে আটক করা হয়। সেই রাতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও হয় (মামলা নম্বর–২৪)। তবে পরে তাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ২০২৪ সালের একটি পুরোনো মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে একই নম্বর ব্যবহার করে এসআই ফেরদৌস জামান একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন, যেখানে গ্রেপ্তার দেখানো হয় মামুন হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তিকে।
এসআই শাখাওয়াত, যিনি বর্তমানে বরিশালে কর্মরত, জানান—ঘটনার দিন তিনি সহকর্মী এসআই আলতাফ ও এএসআই সাত্তারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে টহলে ছিলেন। তখন খবর পেয়ে জেনিভা ক্যাম্পে যান এবং গণপিটুনির শিকার সাদ্দামকে উদ্ধার করেন। পরে যাচাইয়ে তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া যায়।
শাখাওয়াত দাবি করেন, তিনি কোনো মাদক উদ্ধার করেননি, এমনকি এজাহার কিংবা জব্দ তালিকাও প্রস্তুত করেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি কোনো কাগজপত্র করিনি। আমার নাম কীভাবে মামলায় এলো, জানি না।’
অন্যদিকে ছিনতাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজু আহমেদ বলেন, এই মামলার বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। বরং ওসি তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন এবং বিষয়টি তদারকি করেন।
ওসি আলী ইফতেখার হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। যার দায় থাকবে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন