খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
ফরিদপুরে বোনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে বাদীর ভাই ও ভাবীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ গ্রামে মো. কাশেম মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরেরদিন কাশেম মিয়া ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ‘হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে মারপিট ও গুরুতর জখম ও প্রাণনাশের হুমকি’র অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলার তিনদিন পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক প্রধান আসামি মো. বাবুল হোসেন গ্রেপ্তার হননি। তাই মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে ‘ন্যায় বিচারের দাবিতে একটি মানবিক আবেদন’ করেছেন কাশেমের ভাই শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী কাশেম মিয়া ওই গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে নবম শ্রেণিয়ে পড়ুয়া ছোট বোনকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তার ভাই হাসিবুল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন কোতয়ালী থানায়। ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবদুর রহমান সরদার চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওইদিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. বাবুল হোসেন পলাতক ছিলেন। তিনি এখনও গ্রেপ্তার হননি। মামলা করা ও মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পরও পলাতক আসামি মো. বাবুল তাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাশেম, তার স্ত্রী লাকি খাতুন (৩৫) ও তার দুই মেয়ে মুসলিমা আক্তার (১৩) ও খাদিজা (৩) পাশাপাশি দুই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। দিনগত রাত ২টার দিকে (২৫ জুলাই) তার বোনের হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তদের ঘরের মাটির ভিট খুড়ে ভেতরে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীর মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাদের বড় মেয়ের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বিত্তরা তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
বর্তমানে কাশেম মিয়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তার স্ত্রী লাকি খাতুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ওই আবেদনে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাবুল হোসেন ‘তোদের হত্যার জন্য এক কোটি টাকা রেখেছি’- বলে এলাকায় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।’
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাশেম মিয়ার দায়ের করা মামলায় বাবুল হোসেন (৩৫), রিয়াজ মিয়া (২৫) ও মো. হাসানকে (৪০) আসামি করা হয়। এর মধ্যে রিয়াজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান।’
খবরওয়ালা/এসআর