খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
গাজায় চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষিতে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ, যাদের ‘হুতি’ নামেই বেশি পরিচিত। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, এই হামলা গাজার ওপর চলমান অবরোধ ও গণহত্যার প্রতিবাদে পরিচালিত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘পবিত্র ভূমিতে রক্তপাত বন্ধ ও অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে আমাদের সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে।’
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। তারা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে কিছু সময় পর উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
হুতিদের এই হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক গলে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে বলে দাবি হুতিদের।
এর আগে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠী জানায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের চতুর্থ ধাপে প্রবেশ করেছে তারা। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এখন থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্যিক লেনদেন বা বন্দর ব্যবহারকারীদের জাহাজও আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে। লোহিত সাগরে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনো দেশের জাহাজই নিরাপদ নয়।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করছে। শুধু ভূমিতে নয়, লোহিত সাগরেও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে সক্রিয় হুতি যোদ্ধারা, যাদের আক্রমণে আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।
গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের বহু গোষ্ঠীর মতো ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে বলেই জানিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।
সূত্র: চ্যানেল ১২
খবরওয়ালা/এসআই