খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতাদের ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (৩০ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সতর্কতা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (সিআইআই), ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ ধরনের আশঙ্কার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।
এ প্রেক্ষিতে, সম্ভাব্য সাইবার হামলা মোকাবিলায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের জরুরি ভিত্তিতে একাধিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় যেসব পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে:
১. সার্ভার, ডেটাবেইস এবং আইটি সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা।
২. অপ্রয়োজনীয় পোর্ট বন্ধ রাখা এবং অনুমোদিত অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।
৩. সংরক্ষিত তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩-২-১ ব্যাকআপ কৌশল অনুসরণসহ নিয়মিত ব্যাকআপ ও রিস্টোর নিশ্চিত করা।
৪. ডেটা স্থানান্তর, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এনক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা।
৫. গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) চালু করা।
৬. নিরাপত্তা নজরদারি ও অন্যান্য সিকিউরিটি টুল ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া।
৭. এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ইডিআর), অ্যান্টিভাইরাসসহ নিরাপত্তা সফটওয়্যারের হালনাগাদ ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
৮. ইনসিডেন্ট রেসপন্স প্ল্যান এবং বিশেষায়িত সাইবার প্রতিরক্ষা দল প্রস্তুত রাখা।
৯. সন্দেহজনক লগইন, ফাইল পরিবর্তন বা বাহ্যিক সংযোগ নজরদারি এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
১০. রিমোট এক্সেস, ভিপিএন এবং প্রিভিলেজড অ্যাকাউন্টসমূহ নিয়মিত পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
১১. সাইবার হামলার লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা।
১২. ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা।
১৩. সিস্টেমের স্থায়িত্ব ও সক্ষমতা বজায় রাখতে লোড ব্যালেন্সার স্থাপন এবং বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা।
১৪. বিজনেস কনটিনিউটি ও ডিজাস্টার রিকভারি পরিকল্পনা হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো— সম্ভাব্য সাইবার হামলা প্রতিরোধ, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই চিঠিটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবহেলা করা হলে দেশের আর্থিক খাতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেরি না করে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই