খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতের মামলায় স্থগিতাদেশ নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে ব্যাংকগুলো। একদিকে বাড়ছে মামলার সংখ্যা, অন্যদিকে আদালতে ঝুলে থাকা মামলার কারণে আদায় হচ্ছে না পাওনা টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এ পর্যন্ত অর্থঋণ আদালতে প্রায় আড়াই লাখ মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মামলা এখনও বিচারাধীন। এসব মামলার বিপরীতে ব্যাংকগুলোর পাওনা ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খেলাপি হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে মামলা স্থগিত রেখেছেন। এতে করে ব্যাংকগুলো ওই সব ঋণ আদায়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এত বিপুল সংখ্যক মামলার বিপরীতে এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেউ যাতে আদালতের আশ্রয় নিয়ে ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইনিভাবে যাতে কোনো জেনুইন খেলাপি শুধুমাত্র আইন বা আদালতের আশ্রয় নিয়ে তাদের ঋণ কার্যক্রম অব্যাহত না রাখে, সেদিকটা বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও উচ্চ আদালতের আপিল, স্থগিতাদেশের কারণে খেলাপি ঋণ আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে খেলাপি ঘোষণা করলে আমি আবার নরমাল কোর্টে গিয়ে একটা স্টে অর্ডার নিয়ে নেবো—সেরকম না। যেগুলো অর্থঋণ আদালতে আসবে, এগুলোকে সেই আদালতের মাধ্যমেই সুরাহা করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটাকে সমাধান করবেন।’
করপোরেট আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের যে আইনজীবী থাকে, সে মামলাগুলোতে সক্রিয়ভাবে বিরোধিতা করেন না। এতে মামলা স্টে হয়ে যাচ্ছে। এখন একবার কেউ হাইকোর্ট থেকে স্টে পেলে, তা অকশনের ওপর বা রায়ের পরবর্তী সময়ে তা অব্যাহত রাখে।’
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের সংস্কার ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
খবরওয়ালা/এন