খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর ফলে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র, সৃষ্টি হয়েছে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে পটুয়াখালীতে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় আকারে তীরে আছড়ে পড়ছে, নদ–নদীর পানির উচ্চতাও বেড়েছে। যে কোনো সময় উপকূল দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো সমুদ্র ছেড়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয় জেলে শাহাবুদ্দিন জানান, “পরশু সমুদ্রে গিয়েছিলাম, কিন্তু সমুদ্রের অবস্থা খারাপ দেখে ভোররাতে ঘাটে ফিরে আসি। ২ লাখ ২০ হাজার টাকার সরঞ্জাম নিয়ে সমুদ্রে গিয়েছিলাম, অথচ মাছ বিক্রি করেছি মাত্র ৮০ হাজার টাকার। বাকি সব লস।”
আরেক জেলে খবির আক্ষেপ করে বলেন, “৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর এখনো ঠিকভাবে মাছ ধরতে পারছি না। দুই দিনের বেশি ফিশিং করলেই আবার ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। বারবার লোকসান দিতে হচ্ছে।”
কাদের মাঝিও জানান, “আমরা ছান্দি জালে তেমন মাছ পাচ্ছি না, বাজার সদায় করে সমুদ্রে গিয়ে শেষমেশ খালি হাতে ফিরতে হয়। এবছর বারবারই আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে, বিগত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ।”
আলীপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি জলিল ঘরামী বলেন, “বুধবার রাত থেকেই সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে। অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ইতিমধ্যে তীরে ফিরে এসেছে, যারা এখনো সমুদ্রে আছে, তারাও বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসবে।”
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, “পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তাল রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর। উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড