খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
ক্রীড়া ডেস্ক ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার আয়োজক আইসিসি টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। জুনেই শুরু হবে এই আসর। দুই মাস বাকি, এরই মধ্যে টাইগার ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল। তবে আসর শুরুর আগে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলবে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি হবে টাইগারদের জন্য আসরের আগে মাঠে বড় প্রস্তুতির সুযোগ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা পাচ্ছে কারা! দেশ ছাড়ার আগে টাইগাররা পাঁচ ম্যাচের টি- টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দেশের মাঠে এই সিরিজেই খেলবে বিশ্বকাপের ছায়া দল, এটি সহজেই অনুমেয়। এখানেই হবে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার শেষ পরীক্ষাও। কোন ১৫ জন শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তা জানা যাবে এই সিরিজের পরই। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানালেন এমনটাই। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই খেলবো এটা নিশ্চিত। তবে যেহেতু তার পরেই বিশ্বকাপ, আমাদের তো ক্রিকেটারদের দেখেও নিতে হবে। যারা নিয়মিত পারফর্মার তাদের ব্যাপারটা ভিন্ন। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা একটু তো দেখবো। যদিও এখনো আমার সঙ্গে আরো দুই নির্বাচক আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করিনি। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরই বলতে পারবো আসলে কেমন দল নিয়ে আমরা মাঠে নামবো ও আমাদের পরিকল্পনা কী থাকবে। অধিনায়ক নাজমুল হোসনে শান্ত কোনও সমস্যা না থাকলে নিশ্চিত ভাবে খেলবেন টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে সাবেক দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের থাকা প্রায় নিশ্চিত। তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানদের থাকা নিয়ে সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন থাকছে এনামুল হক বিজয় ও সৌম্য সরকারকে ঘিরে। ধারণা করা হচ্ছে এই দু’জনের একজনই যাবেন বিশ্বকাপে। বিশেষ করে বিজয়ের দল থেকে বাদ পড়া অনেকটা নিশ্চিত। তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হবে না এমনটাই গুঞ্জন। যদিও এই নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন লিপু। দল কেমন হতে পারে কাদের নিয়ে পরীক্ষা হতে পারে আপতত সেই সব নিয়ে তিনি নিরব থাকাই শ্রেয় মনে করেন। লিপু বলেন, কেমন দল হতে পারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তা এখনই বলা খুব চটচলদি হয়ে যাবে। ঈদের পর আমরা নির্বাচকরা বসবো, ভাববো, টিম ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে কথা বলবো এর পরই দল ঘোষণা করবো। অবশ্য এমন দল দিবো যেটা সেরা, সিরিজটা যেন জিততে পারে। সেখানে সবাই ভালো করবে এমন নয়। আমরা দেখবো। অন্যদিকে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেই দলটা বিশ্বকাপের ছায়া স্কোয়াড হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রয়োজনের তুলনায় হয়তো ২ বা ৩ জন ক্রিকেটারকে দলের সঙ্গে বেশি নেয়া হতে পারে। এই সিরিজটা দুটি কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। একটি উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে খানিকটা ধারণা নেয়া আর যারা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুব বেশি সুযোগ পাবে না বা পারফরম্যান্সে ঘাটতি থাকবে তাদেরকে আরও একবার দেখে নেয়া। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের জন্য সিরিজটা বেশ গুরুত্বর্পূর্ণ। মূলত যাদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি থাকবে তাদের জন্য সুুযোগ হতে পারে এই সিরিজে পুষিয়ে নেয়ার। হ্যাঁ, সেই সঙ্গে সুযোগ হবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও উইকেট সম্পর্কে কিছুটা ধারণাও পাওয়া যাবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট্রে উইকেট হতে পারে আলোচনার বড় কারণ। যতটা জানা গেছে এখনো অনেক ভেন্যুতে কাজ চলছে। তবে বিসিবি চেষ্টা করছে বাংলাদেশের যেখানে যেখানে খেলা সেই ভেন্যুর উইকেট গুলো নিয়ে ধারণা নেয়ার। তবে এখন পর্যন্ত কোন ধারণা নির্বাচকদের কাছে আসেনি। তবে এ নিয়ে ভাবছেনা গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তিনি বলেন, এখনো উইকেট সম্পর্কে তেমন একটা আমরা জানিনা। হ্যা এটি সত্যি যে উইকেট কেমন সেই ধারণার উপরই কোন ধরণের বোলিং আক্রমন হবে দলের তা সাজানো হয়। আমরা মোটামুটি একটা ধারণা থেকে দল নিয়ে ভাবছি। আমরা সবকিছু জানথে পারলে এমনটা ১৫ সদস্যের স্কোয়াড দিবো যেন যে কোন ধরনের উইকেটেই খেলতে প্রস্তুত থাকে।