খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এখন আর শুধু মহাকাশচারীদের গবেষণার ক্ষেত্র নয়—এটি হয়ে উঠছে কৃষিকাজের পরীক্ষাগারও। পৃথিবীর বাইরে দীর্ঘমেয়াদি মিশনকে সফল করতে মহাকাশে খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। নিয়মিত বিরতিতে আইএসএসে সফররত নভোচারীরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পাশাপাশি চাষ করছেন গম, সূর্যমুখী, জিনিয়াসহ নানা উদ্ভিদ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর বাইরে খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে। কারণ, বর্তমানে নভোচারীরা ভ্যাকুয়াম-প্যাকড ও ফ্রিজে শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলো সতেজ থাকে না। সেই চাহিদা পূরণে সবজি ও ফসল উৎপাদনের বিকল্প নেই।
নাসার তথ্যমতে, ওজনহীন পরিবেশে অনেক গাছ বেশ ভালোভাবে বিকশিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে নাসার নভোচারী স্কট কেলি আইএসএস থেকে একটি প্রস্ফুটিত জিনিয়ার ছবি পোস্ট করেন, যা মহাকাশে জন্মানো প্রথম ফুল হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে সেই জিনিয়া গাছে ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দিলে বিজ্ঞানীরা তা বিশেষভাবে পুনরুদ্ধার করেন, যা মহাকাশ কৃষিতে এক বড় সফলতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
নাসার ‘ভেজি’ গবেষণায় প্রথমে লেটুস দিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে জিনিয়া, টমেটোসহ আরও নানা সবজি যুক্ত করা হয় গবেষণায়। বাতাস ও পানির পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসব ফসল মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, মহাকাশ কৃষিতে অনেক আগেই অগ্রগামী পদক্ষেপ নেয় রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্যালিউট ৭ অভিযানে নভোচারীরা অ্যারাবিডোপসিস নামের একটি ছোট ফুলের উদ্ভিদ সফলভাবে চাষ করেন, যা পরবর্তীতে মহাকাশে বীজ উৎপাদনকারী প্রথম উদ্ভিদ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়। এছাড়া, ১৯৯০ সালে রাশিয়ার নভোচারীরা মীর মহাকাশ স্টেশনে প্রথমবার গম চাষ করেন। আর ২০১২ সালে ডন পেটিট নামের এক মার্কিন মহাকাশচারী প্রথমবার সূর্যমুখী চাষ করেন মহাশূন্যে।
বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানে মহাকাশকৃষি একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে উদ্ভিদই হতে পারে খাদ্য ও অক্সিজেনের উৎস। সবমিলিয়ে, মহাকাশে সফলভাবে উদ্ভিদ চাষ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণে টেকসই সমাধান এনে দিতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার
খবরওয়ালা/এসআই