খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না কুয়েতের পরিচ্ছন্নতা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপ টেক’-এ কর্মরত ১৩০ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক। এ নিয়ে তারা কর্মবিরতিতে গেলে, কুয়েতের শ্রম আইনে ধর্মঘট নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের আটক করে পাঠানো হয়েছে ডিপোর্টেশন সেন্টারে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন। তিনি জানান, কিছু বাংলাদেশিকে এরই মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারে কুয়েত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গত রবিবার শ্রমিকদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে শ্রম মিনিস্টার আবুল হোসেনের নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট থানায় যায়। সেখানে শ্রমিকরা জানান, গত মার্চ মাস থেকে তারা কোনো বেতন পাননি। এরপর ২১ জুলাই থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরদিন ফান্তাস থানায় শ্রমিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে থানার নির্দেশে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের থানায় ডেকে নেওয়া হয় এবং পরে প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ক্যাপ টেক কোম্পানির মালিক জানান, তার এক অংশীদার শ্রমিকদের বেতনের অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তিনি এক মাসের বেতন দিয়ে বাকি অংশ তিন কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব দেন, কিন্তু শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, আগেও এই কোম্পানির সঙ্গে শ্রমিকদের বেতনসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে দূতাবাসের হস্তক্ষেপে মীমাংসা হয়। তবে এবার শ্রমিকরা আগেভাগে দূতাবাসকে কিছু জানায়নি, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুয়েতের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও জনশক্তি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, ‘এখনও কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে আমরা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
খবরওয়ালা/এন