খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িকতা নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেছেন, “দ্বিজাতিতত্ত্বের কবর দিয়েই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।
এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।”
শুক্রবার (১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট বারের হলরুমে ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার সংকট ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা জেড আই খান পান্না। সেমিনারটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম), বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
তিনি বলেন, “আজকে সংখ্যালঘুদের কথা বলা হচ্ছে, অথচ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু মনে করি নিজেকে। আমরা দেখি মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানো হচ্ছে, জুতা দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে, অথচ কিছু করতে পারছি না। এটা বড়ই অসহায়ত্ব।”
এই কথাগুলো বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন এই প্রবীণ আইনজীবী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কখনো জেনে-বুঝে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”
পান্না আরও বলেন, “৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা যে দেশ পেয়েছি, তার তুলনা চলে না। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়। সংবিধান নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে চাইলে আমরা তা বরদাশত করব না।”
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার আজ তলানিতে। ন্যায়বিচার পাওয়ার কথা থাকলেও সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলার বিচার হয় না। কেউ কেউ ধরা পড়লেও পরে ছুটে যায়।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুমন কুমার রায় বলেন, “সব সরকারের আমলেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এমনকি বর্তমানে অন্তর্বর্তী নিরপেক্ষ সরকারের আমলেও সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। সংস্কার কমিশনে সংখ্যালঘুদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা হলেও সরকার প্রতিক্রিয়া জানায় না, এমনকি দুঃখ প্রকাশও করে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ দমন করতে ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাতে সনাতনী সম্প্রদায়ের কণ্ঠরোধ করা যায়।”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে কে পাল এবং সঞ্চালনায় ছিলেন এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক লাকি বাছাড়। আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ ও মো. গোলাম মোস্তফা।
খবরওয়ালা/আশ