খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ থেকে গা-ঢাকা দিয়েছে অনলাইনে বিমানের টিকিট কাটার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’। প্রতিষ্ঠানটির অফিস এখন বন্ধ, ওয়েবসাইটও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই কোম্পানিতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল দেশের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি। হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ফ্লাইট এক্সপার্টের সেলস বিভাগের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘গত রাতেই আমাদের মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আমরা এখন মতিঝিল থানায় যাচ্ছি।’
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সিওও সালমান একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, সাঈদ, হোসাইন এবং সাকিব নামে তিনজন তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তারা সচেতনভাবে পরিকল্পনা করে গত বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে সব দোষ তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এতে সালমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি দাবি করেছেন, ওই তিনজন আজ সকালে তিন কোটি টাকা বা তার কম পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়ে নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
সালমান আরও জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চলা হুমকি ও দোষারোপের কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ছুটি নিয়েছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এভাবে চলে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, ফ্লাইট এক্সপার্টের মালিক পালিয়ে গেছেন। প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট ছিল হজ ২০২৬ নিয়ে, যেখানে হজ রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার ঘোষণা ও হজ প্যাকেজের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছিল। পোস্টটির নিচে অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জয়িতা আফ্রিন নামে একজন লিখেছেন, ‘ফ্লাইট এক্সপার্টের মতো ট্রাস্টেড কম্পানি যদি দেশ থেকে পালিয়ে যায় তাহলে আর কাকে বিশ্বাস করব?’
২০১৭ সালের মার্চ মাসে একটি লঞ্চ ইভেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন ট্রাভেল খাতে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন, ট্যুর প্যাকেজ এবং ভিসা প্রসেসিং সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে কম দামে বিমানের টিকিট কাটার সুযোগ, বিভিন্ন অফার ও সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা থাকায় অল্প সময়েই এটি গ্রাহকদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে।
খবরওয়ালা/এন