খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট ২০২৫
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘ চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দিনের পর দিন চলে আসছে এই কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন, যার ফলে নদীভাঙনের আশঙ্কায় পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা।
রায়পুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান খান বালু উত্তোলনের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অন্তত ৩০টি ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু ওঠানো হয়। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে ১০টি ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে, বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে নষ্ট করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি বালু উত্তোলনে জড়িত থাকলেও গত এক বছর ধরে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে চরবংশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কবির সরকার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাসেল ব্যাপারী, সাবেক যুবদল নেতা মহি উদ্দিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আদম আলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা জালাল সরদারসহ আরও কয়েকজন বিএনপি কর্মী রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ারহাট, পানিরঘাট ও হাজীমারা এলাকায় ডজনখানেক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামাদ আলী বলেন, ‘নদীর পাড়ে আমার দুই বিঘা জমির এক বিঘা গত বছর নদীতে চলে গেছে। এখন যেটুকু আছে, তাও যে নদীতে বিলীন হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই।’
পানিরঘাট এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, ‘আমাদের জমিগুলো খুব উর্বর। সেখানকার নদী থেকে বালু লুট করা হচ্ছে। আমরা বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেয়—বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেবে।’
অভিযুক্ত জালাল সরদার নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, ‘আমার একটি ড্রেজার আছে। প্রশাসনের অভিযানের পর কয়েকদিন ধরে বালু তোলা বন্ধ রেখেছি।’
বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কবির সরকার বলেন, ‘এলাকায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি তৈরির জন্য বালুর দরকার হয়। চেষ্টা করি কারও ক্ষতি না করে বালু তুলতে।’ একই ধরনের বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল ব্যাপারী ও যুবদলের সাবেক নেতা মহি উদ্দিন। তারা বলেন, ‘নদীর গভীর জায়গা থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। এলাকার উন্নয়নের কাজেই এসব বালু ব্যবহৃত হয়।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ অঞ্চলে নদী থেকে বালু তোলার সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। আমাদের দলের অনেকে আগে মামলায় এলাকা ছেড়েছিল। ফিরে এসে এখন কেউ কেউ এসব কাজে জড়িয়ে পড়েছে।’
রায়পুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেড এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। বিএনপি কখনোই দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের কেউ জড়িত থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকেও আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছি।’
নদীভাঙনের শঙ্কা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
খবরওয়ালা/এসআই