খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের অছিউর রহমান ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি এক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন।
তখন তার বয়স ছিল ৩৭ বছর। তবে চার দেয়াল কারাগারে ১৪ বছর কাটিয়েও এখনও বিচার বা সাজা পাননি তিনি। বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী অছিউর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। ১৭ বার জেলা জজ আদালতে হাজিরা দিলেও জামিন মেলেনি এবং বিচার দীর্ঘ সময় থেমে রয়েছে।
অছিউর এর মতো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচার ছাড়াই রয়েছেন মোট ৩৯ বন্দি। তাদের মধ্যে কেউ কারাগারে ৬ বছর থেকে ২১ বছর পর্যন্ত সময় কাটিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও একজন নারী। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার ২০ জন ও জেলার ১৯ জন বন্দি রয়েছেন। মামলা অনুসারে ২৯ জন খুনের, ৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ২ জন অস্ত্র মামলায়, ১ জন ডাকাতি এবং ১ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বন্দি রয়েছেন।
হাটহাজারী উপজেলার মেখল বটতলা এলাকার সাইফুল ইসলাম খালেক ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন খুনের মামলায়। ২৩ বছর বয়সে কারাগারে ঢুকে আট বছর পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন তিনি। ৩২ বার শুনানি হলেও বিচার হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের জাকির হোসেন ২০১৪ সালের ১১ মার্চ কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যা মামলায় ৬২ বার শুনানি হয়েছে, কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণ ধীরে চলছে এবং জামিন পাননি। একইভাবে ২০১৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে চট্টগ্রামের বাড়ইপাড়া এলাকার মো. নাজেরেরও ১১ বছরের বেশি সময় কারাগারে গেছে, এবং তিনি ওরও মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, “বন্দিদের মামলার তারিখ অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ বন্দিত্বের কারণে অনেকেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “খুনের মামলা হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহজে জামিন মেলেনা, আর সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে বিচার দ্রুত হয় না। তবে সাজা না হওয়ার পরও বন্দি রাখা মানবিক নয়।”
মানবাধিকার আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। আর না হলে অন্তত জামিন দেওয়া উচিত, কারণ বছরগুলো কারাগারে কাটানো কোনোভাবেই ফেরানো যায় না।”
খবরওয়ালা/আশ