খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশে খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।
একইসঙ্গে পুলিশের নির্লিপ্ততা, দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ ও পেশাদারিত্বের ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এনেছে টিআইবি। প্রশ্ন তোলা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
টিআইবির ফেলো শাহজাদা এম আকরাম বলেন, গত এক বছরে পুলিশে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। কিন্তু মৌলিক সংস্কার না করে কেবল পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলিতেই মনোযোগ ছিল। তার মতে, আন্দোলনে নেতিবাচক ভূমিকার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তির পতন ঘটেছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যৌথভাবে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করে ২১ দিনে ১২ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে নিয়মিত অভিযানও চালানো হয়।
শাহজাদা এম আকরাম বলেন, জনগণের মাঝে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এমন ‘মব’ বা জনতার দলকে ‘ক্ষুব্ধ মানুষের প্রেশার গ্রুপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ধরনের চাপ প্রয়োগ করে দাবি আদায়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে আসামির নাম অন্তর্ভুক্তি, রাজনৈতিক চাপ বাড়লে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ার অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত আছে। আন্দোলন দমনে পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে—কোনো পক্ষের প্রতি নমনীয়তা, অন্য পক্ষের ওপর নির্যাতনের চিত্র স্পষ্ট বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ফেলো মো. জুলকারনাইন ও ফারহানা রহমান।
খবরওয়ালা/এন