খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (সাবেক স্বরূপকাঠি) উপজেলার এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মসজিদের নামে বরাদ্দ পাওয়া টিউবওয়েলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া ওই অর্থ এখনও মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাজে আসেনি।
অভিযুক্ত মো. আল-আমিন হাওলাদার সারেংকাঠি ইউনিয়নের বিষ্ণুকাঠি গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পিরোজপুর জেলা পরিষদ ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় বিষ্ণুকাঠি গ্রামের হাওলাদারবাড়ী এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে একটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। শুরুতে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হলেও আজও টিউবওয়েল স্থাপন হয়নি।
মসজিদ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ইউপি সদস্য আল-আমিন বরাদ্দ পাওয়া টাকা উত্তোলন করে তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করেছেন এবং দীর্ঘদিনেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করেননি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রাজ্জাক মিয়া বলেন, ‘মসজিদের টিউবওয়েল বসানোর কথা বলে জেলা পরিষদের প্রকল্পের টাকা তুলে আল-আমিন সব আত্মসাৎ করেছেন। তাকে অনেকবার বললেও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করেননি।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমাদের মসজিদের জন্য জেলা পরিষদ একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ইউপি সদস্য আল আমিন তা স্থাপন করেননি। তিনি টিউবওয়েলের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। তিন বছর আগে সারেংকাঠি ইউনিয়নে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৯টি টিউবওয়েল বরাদ্দ করা হয়। অন্য আটটি টিউবওয়েল স্থাপিত হলেও ক্ষমতার জেরে শুধু ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিউবওয়েলের টাকা তুলে পকেটে ভরেছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আল-আমিন হাওলাদার বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সে সময় কিছু পাইপ কিনেছিলাম। কিন্তু টিউবওয়েল স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করে দিতে পারেনি মসজিদ কমিটি। তাই টিউবওয়েল বসানো হয়নি।’
এ বিষয়ে সারেংকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অর্থ ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআই