খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন।
তবে এই আয়োজনে সেই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন শহীদ শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের মা মোছা. নাজমা খাতুন লিপি।
আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যে-সব সংগঠন ও শিক্ষার্থী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ও আহত শিক্ষার্থী ইভান তাহসিব বলেন, “যারা রক্ত দিয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে একতরফাভাবে আয়োজন করা হয়েছে।”
ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, “আজ যারা ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ধারণের কথা বলেন, সেই সময় হয়ত তারাই স্বৈরাচারের পক্ষে থাকতেন। এই আত্মবিস্মৃত প্রশাসনের প্রতি ধিক!”
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারাও। তাঁদের মতে, প্রকৃত যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ও অবমাননাকর আচরণ ইতিহাসের প্রতি অবিচার।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন স্বীকার করে বলেন, “আমাদের ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সবাইকে নিয়ে আয়োজন করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করে সবার অবদান মূল্যায়ন করেছে। বাস্তবতার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠান হয়েছে।”
তবে উপাচার্যের এই বক্তব্য আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা লেখেন—”যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে শ্রদ্ধা মানে ইতিহাসকে অপমান করা। এটা চেতনার উদযাপন নয়, বরং বিকৃতি।”
খবরওয়ালা/আশ