খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
রাজনীতির ময়দানে বহুমাত্রিক আলোচনার জন্ম দিয়ে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে ২০২৪ সালের ছাত্র-আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, বর্তমান সরকার যেহেতু নির্বাচিত নয়, তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ভবিষ্যৎ সরকার চাইলে এই ঘোষণাপত্রে পরিবর্তন আনতে পারে। তার ভাষায়, “ঘোষণাপত্রটিকে সংবিধানের তফসিলে যুক্ত করার কথা বলা হলেও, তা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।”
তবে অনেকেই আলোচনা করতে গিয়ে বর্তমান ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ১৯৭১ সালের মহান ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’কে এক করে ফেলেন বা ভুলভাবে তুলনা করেন। কেউ কেউ তথ্যভিত্তিক জ্ঞানের অভাবে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করেন। অথচ দুই ঘোষণাপত্রের প্রেক্ষাপট ও সাংবিধানিক বৈধতা একেবারেই ভিন্ন।
এই বিষয়ে শাহদীন মালিক স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ বা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তার সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল সেই সময়ের ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’।
তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা জাতীয় পরিষদ (এমএনএ) ও প্রাদেশিক পরিষদ (এমপিএ) সদস্যরা ভারতের আগরতলায় একত্রিত হয়ে সর্বসম্মতভাবে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি সার্বভৌম সরকার গঠন করেন। এই সরকারের মাধ্যমেই প্রণীত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যার ভিত্তিতে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়।
এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও সংবিধানের তফসিলে সংরক্ষিত, তবে তার বৈধতা ও গুরুত্ব ছিল আলাদা—কারণ, তখনকার সব নেতাই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন।
শাহদীন মালিক বলেন, ‘ওটার (স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র) গুরুত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, সেটা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ঘোষণা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তারাই সেটা প্রণয়ন করেছিলেন। আর এখনকার জুলাই ঘোষণাপত্র হলো একটি অনির্বাচিত সরকারের ঘোষণা, কাজেই এর চরিত্র ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণ আলাদা।’
খবরওয়ালা/এমএজেড