খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ এখন পরিণত হয়েছে এক টুকরো হতাশার প্রতীক।
টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে পেলেও মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করে বাকি টাকা তুলে পালিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। নির্মাণকাজ থমকে যাওয়ায় এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা এখন একটি পুরোনো বাঁশের সাঁকো। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকেই এখন বলছেন ‘৮ কোটি টাকার বাঁশের সাঁকো।’
স্থানীয় ও প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলা বাজার টু দনারাম সড়কের বেথরী নদীর ওপর এলজিইডির অধীনে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ২৪৯ টাকা বরাদ্দে ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় শেরপুরের ধ্রুব মোশারফ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের আগস্টের মধ্যে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা তো দূরে থাক, বরং প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ রেখে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ঠিকাদার পকেটে তুলেছেন বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁশের তৈরি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নারী—সবারই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
বাংলা বাজার এলাকার নাজিম আহমেদ ও তৈমুর আলি, আজিজপুর এলাকার শাহরিয়ার আহমদ খালেদ বলেন, ‘অত্র ইউনিয়নের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ৮ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করে মোটা অঙ্কের বিল তুলে নিয়ে ঠিকাদারের গা ঢাকা দেওয়া শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, এটি জনগণের করের টাকায় প্রকাশ্য চুরি। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয়তা এখানেই প্রশ্নবিদ্ধ।’

একদিকে মানুষ চরম দুর্ভোগে, অন্যদিকে চলছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। আমরা চাই—অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়ার সময়।
পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুজেফর আলী বলেন, ‘ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছেন। বারবার বলার পরও কাজ শুরু হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ধ্রুব মোশারফ বলেন, ‘দেশের পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, সুযোগ পেলে আবার কাজ শুরু করব।’
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ শুরু করানো যায়নি। চুক্তি বাতিলের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
খরবওয়ালা/এসআর