খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
বাংলা ভাষাকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে। দিল্লি পুলিশ কর্তৃক এক অফিসিয়াল চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনা। এ ঘটনায় প্রতিবাদের নতুন মাত্রা যোগ করেছে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের স্পষ্ট বার্তা।
গত বুধবার (৬ আগস্ট) দুর্গাপুর কাপের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল বনাম নামধারী ফুটবল ক্লাবের খেলায় ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকেরা একটি বড় ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল—
‘ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি,
মায়ের ভাষা বলছি বলে আজকে বাংলাদেশি।’
এই ব্যানারের মর্মার্থ স্পষ্ট, ভারতের স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের ভাষাকেই আজ পরদেশি বলে অপমান করা হচ্ছে। মুহূর্তেই এই প্রতিবাদ ব্যানারের ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের এক ইনস্পেক্টর বঙ্গভবনের (দিল্লিস্থ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অতিথি ভবন) এক কর্মকর্তাকে একটি চিঠি পাঠান। তাতে অনুবাদ চেয়ে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে বিরোধিতা শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘এ ধরনের শব্দচয়ন চরম লজ্জাজনক, অপমানজনক, দেশবিরোধী এবং সংবিধানবিরোধী। এটা ভারতের সব বাংলাভাষী মানুষের জন্য অপমানজনক।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দেখুন, কীভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দিল্লি পুলিশ বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে বর্ণনা করছে!’
বিজেপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দিল্লি পুলিশের ওই চিঠিতে কোথাও বাংলা ভাষাকে অপমান করা হয়নি। বরং কিছু নির্দিষ্ট উপভাষা, বাক্য গঠন ও উচ্চারণ ভঙ্গির ভিত্তিতে অভিবাসন প্রেক্ষিতে ভাষার উৎস বোঝাতে ‘বাংলাদেশি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সরকারিভাষা ধ্বনিগতভাবে আলাদা। তাতে সিলেটির মতো উপভাষা রয়েছে, যা অনেক ভারতীয় বাঙালির কাছেই দুর্বোধ্য।”
কলকাতার ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দেওয়ার ঐতিহ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) বিরুদ্ধেও স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। সেবার একটি ব্যানারে লেখা ছিল—‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়।’
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অধিকাংশ সমর্থকের পূর্বপুরুষ শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) থেকে ভারতে এসেছেন। দেশভাগ, উদ্বাস্তু জীবন ও ভিটেমাটিহীনতার স্মৃতি এই ক্লাবের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
তাই ভাষা নিয়ে অবমাননা বা বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই ক্লাবের গ্যালারি বরাবরই প্রতিবাদের জায়গা হয়ে উঠেছে। গত বছর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়ও ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিচার দাবি করেছিলেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড