খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ থেকে আম্বিকাগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি।
বর্ষায় সড়কটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারেরও কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দুষছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ২০২১ সালে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘সাদিয়া অ্যান্ড সামিহা এন্টারপ্রাইজ জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১০ শতাংশ কাজ করেই ১ কোটি ৭ লাখ টাকা বিল তুলে নেয়। পরে তারা কাজ ফেলে টালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এলজিইডি তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।
এরপর ২০২৪ সালে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে ‘মেসার্স সরোয়ার জাহান প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। কিন্তু আগের ঠিকাদারের ফেলে যাওয়া মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা নতুন করে বরাদ্দ দাবি করে, এবং এখনো কাজ শুরু করেনি।
এই দীর্ঘসূত্রতায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন প্রসূতি ও জরুরি রোগীরা। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সবজি বাজারজাত করতে পারছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, “এই রাস্তার ওপরই আমাদের ব্যবসা নির্ভর করে। এখন ব্যবসা একপ্রকার বন্ধ।” চরাঞ্চল থেকে সবজি বিক্রি করে শহরে জীবিকা চালানো আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “নৌকা ঘুরে মাল আনতে গিয়ে খরচ দ্বিগুণ, ব্যবসা বন্ধ রেখেছি।”
এলজিইডি ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথম ঠিকাদার আর্থিক সংকটে পড়ে কাজ ফেলে যায়। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগ দিয়েছি। আগের ঠিকাদার ও বর্তমান ঠিকাদার—দুই পক্ষই কাজ ফেলে রেখেছে। তবে নতুন ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “এখানে জনগণের করের টাকায় চরম অবহেলা হয়েছে। যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
প্রসঙ্গত, দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
খবরওয়ালা/আশ