খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হচ্ছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব বলছে, এই ভয়াবহ প্রবণতা থামছেই না। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনাও কমেনি। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই রকম একটা ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্সের পরে আমার ফোর্সটাকে গুছিয়ে, তাদেরকে শতভাগ ইফেক্টিভ করা—এই জায়গায় আমি এখনও সন্তুষ্ট না, আপনারা যাই বলেন।”
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকবেন সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লাখ সদস্য। পুলিশের জন্য থাকবে ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা।
তবুও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন—শুধু বাহিনী মোতায়েনেই সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব নয়। এক বছরে আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি, বরং রাজনৈতিক সহিংসতা ও খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১২১ জন এবং আহত হয়েছেন ৫,১৮৯ জন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “সার্বিকভাবে পরিস্থিতি এখনও অনুকূল নয়। তুহিন নামের যে সাংবাদিককে হত্যা করা হলো, সেই ঘটনা প্রমাণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও দুর্বল।”
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী এলিনা খান বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না, বরং নাজুক অবস্থায় আছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।”
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ডেভিল হান্ট’সহ নানা অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। নাশকতার শঙ্কায় দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সতর্কতাও।
খবরওয়ালা/এন