খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম রাফি (২৬) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহতের ছোট ভাই হত্যাকারী মাদরাসাছাত্রকে (১৬)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং ঘাতকের ঘরের খাটের নিচ থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রবিবার কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ গোপন সোর্স, তথ্যপ্রযুক্তি, এলাকাবাসীর বক্তব্য ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ঘটনার দিনই নিহতের ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। নিহতের স্ত্রী ও আশপাশের মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সে প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিয়ে এলাকাবাসীর কান্না দেখে ছোট ভাই রানার মন ভেঙে যায়। সেও কেঁদে ফেলে। পরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রবিবার সন্ধ্যায় সে ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।
অভিযুক্তের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার আগের দিন ৮ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সে রাফির কাছে ৫০০ টাকা চায়। রাফি টাকা না দিয়ে গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সে। পরদিন সকাল ৭টার দিকে মা ও ভাবি বাড়িতে না থাকার সুযোগে খাটের নিচ থেকে ধারালো দা নিয়ে ঘুমন্ত রাফিকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর দা ধুয়ে আবার খাটের নিচে রেখে দেয় এবং রক্তমাখা লুঙ্গিও সেখানেই ফেলে রাখে।
পুলিশ আরও জানায়, শুধু ৫০০ টাকা না দেওয়াই হত্যার একমাত্র কারণ নয়। বাবা মারা যাওয়ার পর রাফিই ছিল ছোট ভাইয়ের অভিভাবক এবং তাকে মাদরাসায় পড়াশোনায় মনোযোগী করতে নিয়মিত শাসন করত। কিন্তু এসব শাসন মেনে নিতে না পেরে এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে তার মধ্যে বড় ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভ জমতে থাকে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুর কবির বলেন, ‘এ ব্যাপারে মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এসআই