খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় ৩ আগস্ট রাতে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হন। স্থানীয়রা তাদের চোর সন্দেহে বেধড়ক মারধর শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ‘মবের ভয়ে’ তাদের উদ্ধার না করে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে একজন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান, অপরজন কিছু সময় পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবদুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশ থাকলেও তারা জনতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। পুলিশ আসার পরও মব দেখে তারা ফিরে যায়। পুলিশ চাইলে তাদের রক্ষা করা যেত।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার এলাকায় গত আট দিনে চুরি-ডাকাতি, ভ্যান ছিনতাই ও শিশুর হত্যাসহ একাধিক অপরাধের ঘটনা ঘটে। ক্ষিপ্ত স্থানীয়রা ৩ আগস্ট থেকে রাত জেগে পাহারা দিতে থাকেন এবং চোর সন্দেহে রূপলাল ও প্রদীপকে আটকে মারধর শুরু হয়।
রূপলালের ছেলে জয় দাস জানান, রাত ৯টার দিকে বটতলা এলাকায় কয়েকজন যুবক তাদের আটক করেন। পরে তাদের বস্তা থেকে পাওয়া কিছু বোতল নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপস্থিত একজন ‘দয়া করে আমাকে ধরো’ বলে মাটিতে পড়ে যান, এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রূপলাল ও প্রদীপকে কোলে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ জমায়েত হন এবং দুজনকে মারধর শুরু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন হাজার লোক সমবেত হয়ে বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে পিটুনি চালানো হয়। পুলিশের দুটি গাড়ি রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসে অবস্থান নিলেও তারা জনতার ভিড়ে কাজ করতে পারেননি এবং চলে যান। এক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে অচেতন অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন।
বুড়িরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা খোকন মিয়া বলেন, ‘আমি তখন দোকানে ছিলাম। চারদিকে লোকজন ছুটে আসছিল। পুলিশ দুইবার এসেছিল কিন্তু জনতা দেখে চলে গেছে।’
রূপলালের মা লালচি দাস শোক ও ক্ষোভে বলেন, ‘আমার ছেলে দোষী নয়। কেউ বিনা কারণে আমার ছেলেকে মারা ফেলেছে। যারা মারেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ ফারুক জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তখন তিন-চার হাজার লোক সেখানে ছিল। পুলিশ তাদের সরাতে চেয়েছিল কিন্তু জনতা সরেনি। এত বড় মবকে পাশ কাটিয়ে নিরাপদে উদ্ধার করা পুলিশ পক্ষে সম্ভব হয়নি।’
এ ঘটনায় রংপুরের তারাগঞ্জে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের প্রতি নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। নিহত দুই ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি করছেন।
খবরওয়ালা/এমেএজেড