খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
আলাস্কার এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প–পুতিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়েছে যুদ্ধ বন্ধের কোনো ঘোষণা ছাড়াই। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত দেড়টা) শুরু হওয়া বৈঠক টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইউক্রেন সংঘাত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য এই সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে নিরসন করতে হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কোন কারণগুলোকে তিনি মূল সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউক্রেন ও ইউরোপ শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
পুতিন জানান, ট্রাম্পের সদিচ্ছা তিনি প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, উভয়পক্ষেরই ফলাফলমুখী হয়ে কাজ করা উচিত। তার ভাষায়, ‘ট্রাম্প তার দেশের সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবে তিনিও বুঝেছেন, রাশিয়ারও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই পুতিন বলেন, ভৌগোলিকভাবে আলাদা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া আসলে কাছের প্রতিবেশী। তিনি উল্লেখ করেন, আলাস্কার একটি ছোট দ্বীপ থেকে রাশিয়ার জলসীমার দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। তাই করমর্দনের সময় তিনি ট্রাম্পকে সম্বোধন করেছিলেন, ‘হ্যালো, প্রতিবেশী।’
পুতিন আলাস্কার ইতিহাসও তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এক সময় অঞ্চলটি রাশিয়ার অংশ ছিল, যা পরে ১৮০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করা হয়। এখনও সেখানে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের উপস্থিতি রয়েছে। তার মতে, এ ঐতিহ্য দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে সহায়ক হতে পারে।
এরপর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার পটভূমি ও তার যুক্তি তুলে ধরেন। তবে বৈঠক শেষে যুদ্ধ থামানোর বা যুদ্ধবিরতির কোনো ঘোষণা আসেনি।
খবরওয়ালা/এমএজেড