খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
আজ ১৬ই আগস্ট, বাংলা রক সঙ্গীতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন। ১৯৬২ সালের আজকের দিনে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে তার সুর, তার গিটারের রেশ এবং তার গান চিরকাল বেঁচে আছে। এই দিনটি শুধুমাত্র তার জন্মবার্ষিকী নয়, এটি তার সৃষ্টিকর্ম এবং বাংলা সংগীতে তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করার একটি বিশেষ উপলক্ষ্য।
আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গায়ক বা গিটারিস্ট ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তার হাত ধরে বাংলা রক সঙ্গীত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি) ব্যান্ড গঠন করে তিনি বাংলা ব্যান্ডের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার গানগুলো ছিল তারুণ্যের প্রতীক, যেখানে প্রেম, বিদ্রোহ, হতাশা এবং জীবনের নানা অনুভূতি প্রাণবন্ত হয়ে উঠতো। “সেই তুমি,” “চলো বদলে যাই,” “হাসতে দেখো,” “এখন অনেক রাত,” এবং “রুপালী গিটার”—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
আইয়ুব বাচ্চুকে প্রায়শই ‘গিটার জাদুকর’ বলা হতো। তার গিটারের সুর ছিল তার গানের মতোই স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী। যখন তিনি গিটার হাতে নিতেন, তখন মনে হতো তার আঙ্গুলগুলো যেন সুরের এক অন্য জগতে হারিয়ে যেত। তার এই অনন্য দক্ষতা হাজার হাজার তরুণকে গিটার হাতে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তার বিখ্যাত ‘রুপালী গিটার’ গানটি তার নিজের গিটারের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ।
২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবর তার আকস্মিক মৃত্যু দেশের সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। কিন্তু তার গানগুলো আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার সুর আছে। তার গিটার বাজছে না, কিন্তু তার গিটারের রেশ আজও শোনা যায়। তার জন্মদিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কিছু কিছু মানুষ চলে গিয়েও তাদের সৃষ্টি দিয়ে অমর হয়ে থাকে। বাংলা সঙ্গীত যতদিন থাকবে, আইয়ুব বাচ্চু ততদিন বেঁচে থাকবেন।
খবরওয়ালা/এফএস